প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 30, 2025 ইং
মশার উপদ্রবে ভোগান্তিতে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা, নির্বিকার প্রশাসন

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে আবাসিক হলগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকে মশার আক্রমণে স্বাভাবিক পড়ালেখা, বিশ্রাম ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হলের নিচতলা ও আশপাশের এলাকায় মশার সংখ্যা ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, হলগুলোর সামনে কিছুটা পরিষ্কার করা হলেও পেছনের অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। সেসব জায়গায় জমে থাকা আবর্জনা মশা, বিভিন্ন পোকামাকড় এবং মাঝে মাঝে বিষধর সাপের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ছে।
আবাসিক শিক্ষার্থী তানভীর হাসান তন্ময় বলেন, "হলের রুমে ঠিকমতো থাকা যায় না। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর মশার আক্রমণ সহ্য করা অসম্ভব হয়ে যায়। শুধু সন্ধ্যায় নয়, দিনের বেলাতেও রুমে থাকা যায় না। ক্যাম্পাসে ফগিং বা লার্ভিসাইডিংয়ের কোনো কার্যক্রম দেখা যায় না।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. শামসুজ্জোহা জানান, "আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি আগেই জানিয়ে এসেছি। তবে তারা বাজেট, লোকবল ও ওষুধের সংকটের কথা বলছে। তবুও শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করছি, বিষয়টি সমাধানে শিগগিরই উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
ডেপুটি চিফ ফার্ম সুপারিনটেনডেন্ট এস. এইচ. এম. গোলাম সরোয়ার বলেন, "মশা নিয়ন্ত্রণ মূলত হল সুপারের দায়িত্ব। আমাদের বিভাগের সরাসরি দায়ভার নেই। স্প্রে বা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম হলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে করা হয়।"
জিয়া হলের সুপার ড. আবু খায়ের মো. মুক্তাদিরুল বারী চৌধুরী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শীতের মৌসুমে ডেঙ্গুসহ নানা মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে। তারা পরিচ্ছন্নতা, মশা নিধন কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা জোরদার করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
মুক্তিসরণি/এমএস
© মুক্তিসরণি