মেজর লিগ সকারে বয়স যেন উল্টো পথে হাঁটছে লিওনেল মেসির। ৩৮ বছর বয়সেও তিনি এমন ছন্দে খেলছেন যে ইউরোপের তারকা ফরোয়ার্ডরাও পেছনে পড়ে যাচ্ছেন। ইন্টার মায়ামিকে নিয়মিত বড় ম্যাচে তুলে আনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে তার আধিপত্য আবারও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কি এবারও এগিয়ে মেসি?
চলতি বছর মেসির পরিসংখ্যান প্রায় অবিশ্বাস্য। ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ৭১টি সরাসরি গোল অবদান, যা ইউরোপ-আমেরিকা মিলিয়ে অন্য কারও নেই। তার সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী কিলিয়ান এমবাপ্পে ৬৪ গোল অবদানে, হ্যারি কেন আছেন ৬২–তে আর আর্লিং হলান্ড ৫৮–তে। এমনকি সৌদি লিগে উজ্জ্বল মৌসুম কাটানো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নামও এই তালিকায় নেই।
সিনসিনাটির বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ইস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনালে ওঠার ম্যাচে আরেকটি মাস্টারক্লাস দিয়েছেন মেসি। ওই ম্যাচে উঠে এসেছে তার ক্যারিয়ারের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক—মোট ১৩০০ গোল অবদান। ৮৯৬ গোল ও ৪০৪ অ্যাসিস্ট মিলে তিনি পেরিয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের বিরল এই সংখ্যা। এ বয়সে এসে এমন ধারাবাহিকতা এবং উচ্চতা কোনো খেলোয়াড়ই আগে দেখাতে পারেননি।
তার সাম্প্রতিক ফর্ম আরও বিস্ময়কর। সেপ্টেম্বরের সিয়াটল ম্যাচ থেকে শুরু করে শেষ সাত ম্যাচে মেসির গোল অবদান ২২টি—১৬ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট। এ সময়ে তাকে গোলবঞ্চিত রাখতে পেরেছে মাত্র দুটি দল—টরন্টো ও শিকাগো।
ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে উয়েফা–ফ্রান্স ফুটবলের চারটি মানদণ্ডই—ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলীয় অবদান, ক্যারিয়ারের মূল্যবোধ ও ফেয়ার প্লে—এই মুহূর্তে মেসির পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে। ইন্টার মায়ামিকে কনফারেন্স ফাইনালে তুলে তিনি দলীয় অবদানের ক্ষেত্রেও শক্ত অবস্থানে আছেন। সামনে আরও প্রায় ১০ মাস সময়; ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন আর অবাস্তব নয়।
ইস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনালে ইন্টার মায়ামির প্রতিপক্ষ নিউ ইয়র্ক সিটি এফসি। ফিলাডেলফিয়াকে ১–০ গোলে হারিয়ে তারা ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। দুই লেগে মোট ১৮০ মিনিটের এই লড়াইয়ের যে দল জিতবে, তারা উঠবে এমএলএস কাপের ফাইনালে—একটি স্বপ্ন, যা এখনো অপূর্ণ ডেভিড বেকহ্যামের ক্লাবের জন্য।
ইন্টার মায়ামি যত এগোচ্ছে, ততই এগোচ্ছে মেসির ব্যক্তিগত লক্ষ্যও। সংখ্যার ভাষায় একটাই সত্য—এ মুহূর্তে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে লিওনেল মেসির সমকক্ষ আর কেউ নেই।
মুক্তিসরণি/এমএস
মুক্তিসরণি ডেস্ক