ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

সাজিদ হত্যার বিচারের দাবিতে ইবিতে ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ

সাজিদ হত্যার বিচারের দাবিতে ইবিতে ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ
ad728
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ‘হত্যাকাণ্ডের হত্যা ঘেরাও’ শিরোনামে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে রক্তমাখা লাল কাফনে মোড়ানো প্রতীকী লাশ প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, আগামী শনিবার ‘কর্তাব্যক্তিদের চোখে আঙুল দিয়ে লাশ দেখানো’ শিরোনামে নতুন কর্মসূচি পালন করা হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটকের সামনে রক্তমাখা লাল কাফনে মোড়ানো একটি প্রতীকী লাশ বিছিয়ে রাখা হয়। দড়ি দিয়ে পথ আংশিকভাবে বন্ধ করে সেখানে বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড টানানো হয়। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— *“সাজিদ হত্যার দায় মাথায় নিয়ে প্রশাসনিক ভবন চালাচ্ছি”*। কাফনের পাশে লাল রঙে রক্তের দাগ এঁকে ‘লাশ’ শব্দটি লেখা এবং চারপাশে প্রতীকী রক্তের ছোপ ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

এ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের রক্তমাখা কাফন টপকে অফিসে যেতে হবে—এটাই এই প্রতিবাদের মূল বার্তা। সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, হত্যাকাণ্ডের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও সিআইডি কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে এ ঘটনার সুরাহা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই। দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে গণআন্দোলনের মাধ্যমে বিচার আদায়ের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ বলেন, সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন ও সিআইডি বারবার সময়ক্ষেপণ করছে। দফায় দফায় ১৫ দিন পর পর আশ্বাস দিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে। এই নাটক বন্ধ করে কঠোর কর্মসূচির দিকে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

মুক্তিসরণি/এমএস