ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

কেমন হবে ‘তারেকমিডিয়া’

কেমন হবে ‘তারেকমিডিয়া’
ad728
শেখ হাসিনা সরকারকে ডুবিয়েছে ‘হাসিনামিডিয়া’। যে মিডিয়া শেখ হাসিনাকে ‘পলিটিক্যাল ইকোচেম্বারে’ ঢুকিয়ে তার নেতৃত্বাধীন ঐতিহ্যবাহী আ.লীগকে (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রমোশন দিয়ে একেবারে ‘দেশ-রাষ্ট্র-সরকারে’ পরিণত করেছিল। বিপজ্জনক করে তুলছিল জাতিগত ফাটল রেখাকে।” এসব ‘আনকাট’ সমালোচনার ঝড় প্রায়ই উঠতে দেখা যায় চায়ের টেবিলে, আড্ডায়।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর মিডিয়ার সেই ‘ক্যারেক্টার’ ঠিক রেখে শুধুই বদল ঘটেছে স্লোগানের। মিডিয়া হাউজগুলোর বড় বড় চেয়ারে গিয়ে বসেছেন (বা কৌশলে দখল করেছেন) ‘বিরোধীন্যারেটিভ‘ তৈরির কারিগররা। যারা দলীয় স্লিপে সংবাদকর্মীর ছদ্মবেশে হাউজগুলোর জন্য দলীয়কর্মীদেরই খুঁজেছেন, নিয়োগও দিয়েছেন। যা ‘হাসিনামিডিয়ার’ মডেলকেই বার বার স্মরণ করায়।

মিডিয়ার এমন ইকোসিস্টেম ফ্যাংশন করার মধ্যেই ‘ঐতিহাসিক’ ভোট উৎসবে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দলীয়প্রধানের প্রথম প্রেস ব্রিফিং ছিল বর্তমান মিডিয়ার ক্যারেক্টার বুঝে ওঠার প্রথম ধাপ। দু-একজন প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের ধরন আর তাদের বডি ল্যাংগুয়েজ নিয়ে তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় যথেষ্ট আলোচনা, সমালোচনা হয়েছে, হচ্ছে। আশাবাদী অনেকে বলছেন, ‘গণভবনের তেলাঞ্জলী মডেল কমে আসার লক্ষণ স্পষ্ট।’

দু-একদিনের মধ্যেই বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠন হবে। দলীয়প্রধান থেকে তারেক রহমান হবেন সরকারপ্রধান। যিনি পশ্চিমের গণতন্ত্র চর্চা খুব কাছ থেকে দেখে দেখে ১৭ বছর ‘নির্বাসন’ জীবন কাটিয়ে ‘বিশেষ একটা প্ল্যান’ নিয়ে দেশে ফিরেছেন। প্রথাগত ছক ভেঙে যার নির্বাচনী প্রচারণা ছিল অনেকখানি ‘স্বপ্ন জাগানিয়া’। নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন-সম্ভাবনাকে পুঁজি করেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারও করেছেন।

এমন বিরল মুহূর্তে তাই কৌতুহলী প্রশ্ন, তারেক রহমান সরকারের মিডিয়া কেমন হতে যাচ্ছে? যখন ভোটের আগেই বিএনপির অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদেরও আহ্বান ছিল, “বিএনপির সাংবাদিক হওয়ার দরকার নেই। জনগণের সাংবাদিক হোন”। তারেক রহমানও বলেছিলেন, “সমালোচনা না হলে দল বা সরকার চালানো মুশকিল।”

‘হাসিনামিডিয়া’ থেকে কতটা ভিন্ন হবে ‘তারেকমিডিয়া’- এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে দেখা দরকার, জনগণের করের টাকায় বেতন পাওয়া বাসস, বাংলাদেশ বেতার আর বিটিভি কি বাতাবি লেবুর চাষ চালিয়েই যাবে, নাকি মিডিয়াকর্মীরা মেরুদণ্ড শক্ত করতে পারবেন? এরপর দেখা দরকার বিএনপির ‘মুখপত্র’ হিসেবে বহুল পরিচিত ‘দৈনিক দিনকাল’ নিজেকে কতটা আধুনিক করতে পারে? সেই সঙ্গে প্রশ্ন করা যায়, বিএনপি সমর্থক বিনিয়োগকারীদের মিডিয়া সরকারকে রাইট ট্র্যাকে রাখার জন্য কতটা গাইড করতে পারে?

সবার আগে ‘দৈনিক দিনকালকে’ বদলে যেতে হবে। এমন কাউকে এখানে সম্পাদক নিয়োগ দিতে হবে যিনি সত্যিকার অর্থেই পেশাদার সাংবাদিক, দলদাস নন। যিনি দলীয়প্রধানের আপাদমস্তক ছবি দিয়ে পত্রিকার পুরো পৃষ্ঠায় জ্যাকেট পরাবেন না। বরং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে সরকারপ্রধানের সিদ্ধান্তগুলোর কাটাছেঁড়া করবেন, বিশেষজ্ঞদের প্যানেল বসিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় দিক নির্দেশনা দেবেন। দিনকাল আধুনিক সাংবাদিকতায় মডেল হয়ে উঠতে পারলেই কেবল চরিত্র বদলাতে পারে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো।

তবে বলা ভালো, বিএনপির ‘থিঙ্কট্যাংক’ বা সমর্থক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকরা যেসব হাউজের বড় চেয়ারে বসেছেন তারা ভালো সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত এখন অবধি দেখাতে পারেননি। শুধু দলীয়প্রধানকে ‘হাসিনামিডিয়া’র মতো অতিরিক্ত উচ্চতায় নিয়ে কাভারেজ দেওয়া আর প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির প্রথাগত সমালোচনা ছাড়া আর কোনো ফ্যাংশন নেই।

এছাড়া যে দু-একটা মিডিয়া বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতা বা সমর্থকদের হাতে পরিচালিত হচ্ছে সেগুলোর ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে ঘুন ধরেছে। বড় ভবন আর বিনিয়োগের স্বপ্ন দেখানো ছাড়া ভালো সাংবাদিকতার কোনো অঙ্গীকার এখনও করেননি তারা।

(নোট: মতামতটি লেখকের ফেসবুক আইডিতে ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে পোস্ট করা)

মুক্তিসরণি/এমএস