চলতি বছরের ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ এর তালিকায় 'বিতর্কিত' কবি মোহন রায়হানের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের প্রগতিশীল ও জাতীয়তাবাদী ধারার কবি-সাহিত্যিকরা।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই মনোনয়নকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তার নাম প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বিবৃতিতে সাহিত্যিকরা অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দোসর এবং ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে জড়িত একজনকে রাষ্ট্রীয় এই সম্মাননা প্রদান করা মেধা ও দেশপ্রেমের অবমাননা।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মোহন রায়হান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে ‘ইনডেমনিটি’ নাটকের মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃতির সাথে জড়িত। এছাড়াও তিনি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে একটি বিশেষ ‘সাংস্কৃতিক সিন্ডিকেট’ কৌশলে তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "বিগত ১৭ বছর ধরে যারা চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও জাতীয়তাবাদী ও প্রগতিশীল ধারার সাহিত্য চর্চা করে এসেছেন, তাদের বাদ দিয়ে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা একটি গভীর ষড়যন্ত্র। এটি মূলধারার লেখকদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে দেশে ভয়াবহ বুদ্ধিবৃত্তিক শূন্যতা তৈরি করবে।"
ফ্যাসিবাদবিরোধী সাহিত্য আন্দোলনের এই প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ২৭ জন কবি ও সাহিত্যিক। তারা হলেন: ছড়াকার আবু সালেহ, কবি মাহবুব হাসান, কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, কবি শামসুদ্দিন হারুন, কবি শাহীন রেজা, কবি ফেরদৌস সালাম, ছড়াকার আতিক হেলাল, কথাসাহিত্যিক ইউসুফ শরীফ, কবি কামার ফরিদ, কবি তরঙ্গ আনোয়ার, কবি আইয়ুব সৈয়দ, কবি খান মোহাম্মদ খালেদ, ছড়াকার সালাম ফারুক, কবি শহীদ আজাদ, ছড়াকার জুলফিকার শাহাদাত, কবি আবু জুবায়ের, কবি শান্তা মারিয়া, কবি শাহীন রিজভী, কবি সৈয়দ রনো, ছড়াকার আমিনুল ইসলাম মামুন, কবি শামীমা চৌধুরী ও কবি ঢালী মোহাম্মদ দেলোয়ার প্রমুখ।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, চিহ্নিত ‘আওয়ামী সাহিত্য সিন্ডিকেট’ পুনরায় মাঠে নেমেছে এবং বর্তমান সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই মোহন রায়হানকে পুরস্কৃত করার পায়তারা চলছে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কবি শামসুদ্দিন হারুন জানান, তারা অবিলম্বে পুরস্কারের তালিকা থেকে বিতর্কিত ব্যক্তির নাম প্রত্যাহার করে একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও যোগ্য কবিকে এই সম্মাননা প্রদানের জোর দাবি জানাচ্ছেন।
মুক্তিসরণি/এমএস
নিজস্ব প্রতিবেদক