ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা দম্পতি মৌসুমী ও ওমর সানি-কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফের শুরু হয়েছে বিচ্ছেদের গুঞ্জন। দীর্ঘদিন ধরে দুইজনের আলাদা দেশে অবস্থানকে কেন্দ্র করে দানা বেধেছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সাম্প্রতিক এক ভিডিও বার্তায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই জুটির ব্যক্তিগত সম্পর্কের বাস্তবতা।
৭ মে ওমর সানির জন্মদিন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত মৌসুমী একটি ভিডিও বার্তা পাঠান। সেখানে তাকে জন্মদিনের কেক সামনে রেখে আবেগঘনভাবে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি ওমর সানিকে নিজের জীবনের “বটগাছ” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতেও তাকে পাশে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক ভক্তই মনে করছেন, বিচ্ছেদের গুঞ্জনের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।
বিনোদন অঙ্গনের বিশ্লেষকদের মতে, তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে দুইজন ভিন্ন দেশে অবস্থান করলে সামাজিক মাধ্যমে নানা ব্যাখ্যা তৈরি হয়। তবে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক অনেক সময় জনমাধ্যমে প্রচারিত ধারণার চেয়ে ভিন্ন হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ওমর সানি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৌসুমীর মা অসুস্থ থাকায় এবং তাদের মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করায় মৌসুমী সেখানে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে ভিসাজনিত জটিলতার কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে মানুষ যেভাবে তাদের সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করছে, তা তাকে বিব্রত করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে এই জুটির পথচলা শুরু হয় নব্বইয়ের দশকে। ১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দোলা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে একসঙ্গে পর্দায় হাজির হন তারা। পরবর্তীতে ‘আত্মঅহংকার’, ‘প্রথম প্রেম’, ‘মুক্তির সংগ্রাম’ ও ‘হারানো প্রেম’-এর মতো একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা পান। কাজের সূত্র ধরেই তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ১৯৯৫ সালের ২ আগস্ট বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই তারকা জুটি।
শোবিজ অঙ্গনের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘ দাম্পত্যজীবন ও পারিবারিক বন্ধনের কারণে মৌসুমী-ওমর সানি এখনও দর্শকদের কাছে ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবেই বিবেচিত। সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তা সেই ধারণাকেই আরও শক্তিশালী করেছে।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দ্রুত গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়ার গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। মৌসুমী ও ওমর সানির ঘটনাও সেই বাস্তবতার আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
মুক্তিসরণি/এমএস
মুক্তিসরণি ডেস্ক