ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

৩৫ বছরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

৩৫ বছরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
ad728
আগামীকাল ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসে ইতিমধ্যেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। আয়োজনের প্রস্তুতিও রয়েছে শেষ পর্যায়ে।

১৯৮৭ সালে সরকারি গেজেটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা পায়। ১৯৯১ সালের ৩১ আগস্ট মাত্র ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ২৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

আজ ৩৪ বছর পর, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চশিক্ষায় একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮টি স্কুল, ১টি ইনস্টিটিউট, ২৯টি বিষয়ে ভর্তি কার্যক্রম এবং ৭,৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। দেশের একমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ, ফলে একাডেমিক পরিবেশ শান্ত ও শিক্ষাবান্ধব।

গবেষণার ক্ষেত্রেও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। জীববিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, আরবান প্ল্যানিং, মেরিন রিসোর্স, ব্যবসায় শিক্ষা, ফোকলোর ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা জাতীয় নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় সারাদিনব্যাপী আয়োজন করেছে। সকাল ১০টায় শুরু হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। বেলা ১১টায় সাংবাদিক লিয়াকত আলী অডিটোরিয়ামে মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে কৃতী শিক্ষার্থী ও সংগঠনকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। এরপর ‘উদ্যম বাংলা’ প্রাঙ্গণে বিভাগ ও ডিসিপ্লিনের অর্জন এবং আগামী বছরের পরিকল্পনার ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করা হবে।

বাদ জোহরে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও প্রশাসনিক ভবনের মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মন্দিরে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হলে খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাস আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। মেইন গেট থেকে শুরু করে আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন, মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য স্থাপনায় দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা করা হয়েছে, যা দিবসের আনন্দ আরও উজ্জ্বল করেছে।

মুক্তিসরণি/এমএস