ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

বিপিএলে ফিক্সিং অভিযোগে নতুন ঝড়!

বিপিএলে ফিক্সিং অভিযোগে নতুন ঝড়! ছবি: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স
ad728
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ঘিরে ফের সামনে এসেছে ম্যাচ ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগ। দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসরে অনিয়ম, বেটিং এবং তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে এক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিষয়টি ঘিরে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, বিপিএলের ১১ ও ১২তম আসরে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত শেষে কয়েকজন ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব অভিযোগ আনা হয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের লজিস্টিকস ম্যানেজার লাবলুর রহমান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-স্বত্বাধিকারী তৌহিদুল হক তৌহিদ, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার অমিত মজুমদার এবং সিলেট স্ট্রাইকার্সের টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী। অভিযোগ গঠনের পর আপাতত তাদের ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রম থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে মূলত আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার একাধিক ধারা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে বেটিংয়ে সম্পৃক্ততা, তদন্তে সহযোগিতা না করা, তথ্য গোপন করা এবং তদন্ত কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার অমিত মজুমদারের বিরুদ্ধে ক্রিকেট ম্যাচে বাজি ধরার অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও তিনি কখনও বিপিএলে খেলেননি, তবে তদন্তে তাকে বাজিকর হিসেবে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিসিবি।

এদিকে বিসিবি আরও জানিয়েছে, শুধুমাত্র সাম্প্রতিক আসর নয়—বিপিএলের নবম, দশম ও একাদশ আসরেও ফিক্সিংয়ের প্রমাণ মিলেছে। ফলে বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে না ক্রিকেট বোর্ড। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অর্থের প্রবাহ এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবকে কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছিল।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বিপিএল বাংলাদেশের ক্রিকেটের ব্র্যান্ড ভ্যালু বহন করে। সেখানে ফিক্সিং বা দুর্নীতির অভিযোগ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, পুরো দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তির জন্যও হুমকি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকেই মনে করছেন, বিপিএলের শুরু থেকেই ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থাপনায় নানা দুর্বলতা ছিল। কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম, খেলোয়াড়দের বকেয়া এবং ব্যবস্থাপনার অসংগতি নিয়ে অভিযোগ উঠলেও কঠোর নজরদারির অভাব ছিল দৃশ্যমান। সাম্প্রতিক এই তদন্ত সেই দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলোকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে অভিযুক্তদের ১৪ দিনের মধ্যে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় এনে বিপিএলকে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা হবে।

মুক্তিসরণি/এমএস