ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

বিএনপির কাছে যেসব আসন চায় এনসিপি

বিএনপির কাছে যেসব আসন চায় এনসিপি
ad728

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে। সম্ভাব্য আসন সমঝোতা ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বিএনপির কাছে অন্তত ২০টি আসনে ছাড় ও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে মন্ত্রিত্বের অংশীদারিত্ব দাবি করেছে বলে জানা গেছে।


দুই দলের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আলোচনা এখনো অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে আছে। তবে এনসিপি শেষ পর্যন্ত বিএনপি জোটে যোগ দেবে নাকি এককভাবে নির্বাচনে যাবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। জানা গেছে, দলটির কিছু প্রভাবশালী নেতা ব্যক্তিগতভাবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন।


বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এনসিপির নেতারা শুধু আসন ভাগাভাগিই নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নিরাপত্তারও নিশ্চয়তা চান। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তিনজন এনসিপি নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। তবে এ বিষয়ে বিএনপি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়নি।


অন্যদিকে, এনসিপি ঢাকায় চারটিসহ অন্তত ২০টি আসনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করতে আগ্রহী। বিএনপির শর্ত— এনসিপি যেন জামায়াতে ইসলামি বা তাদের নেতৃত্বাধীন কোনো জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় না যায়।


সূত্র বলছে, জামায়াত এনসিপিকে তুলনামূলক বেশি সুবিধা দিতে চেয়েছিল, কিন্তু এনসিপির বেশিরভাগ নেতা এখন ডানপন্থি ভাবমূর্তি থেকে বের হয়ে মধ্যপন্থি অবস্থান ধরে রাখতে চায়।


সম্প্রতি এক বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের মৌলিক দাবিগুলোর সঙ্গে যেসব দল কাছাকাছি, তাদের সঙ্গে ঐক্য বা সমঝোতা হতে পারে— আমরা সেটা বিবেচনায় রাখব।”


ইতিমধ্যে এনসিপি কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে। এতে চেয়ারম্যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আর সেক্রেটারি তাসনিম জারা। দলটি ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই, প্রচারণা ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা–১১, সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর–৪, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা–১৮ বা চাঁদপুর–৫, তাসনিম জারা ঢাকা–৯ এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ঢাকা–১৪ আসন থেকে প্রার্থী হতে চান। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পঞ্চগড়–১, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা–৪ এবং আবদুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালী–৬ আসন থেকে লড়তে প্রস্তুত।


এই আসনগুলোর মধ্যে শুধু ঢাকা–৯ ও ঢাকা–১৮ বাদে বাকিগুলোতে ইতোমধ্যে বিএনপি প্রার্থী দিয়েছে। তবে ওই দুটি আসন এনসিপির জন্য ফাঁকা রাখা হবে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।


বুধবার (৫ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ গাজী সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে আমাদের সংস্কার ও জুলাই সনদের দাবির সঙ্গে কোনো দল একাত্মতা জানালে জোট গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করব।”


তিনি জানান, ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এনসিপির প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হবে। বেগম খালেদা জিয়া যে তিনটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সেসব আসনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের সম্মানে আমরা হয়তো সেসব এলাকায় প্রার্থী দেব না।”


নাহিদ ইসলাম আরও জানান, এবারের নির্বাচনে সর্বাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি।


তথ্যসূত্র : প্রথম আলো


মুক্তিসরণি/এমএস