ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

বিপর্যয় ঠেকাতে ‘গণতাওবার’ ডাক শায়খ আহমাদুল্লাহর

বিপর্যয় ঠেকাতে ‘গণতাওবার’ ডাক শায়খ আহমাদুল্লাহর
ad728
পরপর কয়েকটি ভূমিকম্পে জনমনে যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেছেন—কেবল সচেতনতা বা প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নয়, আল্লাহর রহমত কামনা এবং গণতাওবাই হতে পারে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে উত্তরণের পথ।

রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেন, ঘনঘন ভূমিকম্প নিছক ভূতাত্ত্বিক নড়াচড়া নয়; বরং এটি গভীর সতর্কবার্তা। বড় কোনো বিপদ আসন্ন কিনা—তা কেউ জানে না। তাই বাস্তব প্রস্তুতির পাশাপাশি আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি গ্রহণ অতীব জরুরি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনঘনত্ব ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় যদি ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে, তাহলে এক লাখের বেশি ভবন ধসে পড়তে পারে—যা অত্যন্ত ভীতিজাগানিয়া পূর্বাভাস। অথচ এমন পরিস্থিতিতে আধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকর্মী, ভারী যন্ত্রপাতি ও সামগ্রিক প্রস্তুতি—সব ক্ষেত্রেই রাষ্ট্র দারুণ পিছিয়ে।

অপ্রয়োজনীয় খাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্থাপনার নাম পরিবর্তন, ভাস্কর্য, মেগা প্রকল্প, রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা—এসব জায়গায় যেভাবে অর্থ ব্যয় হয়, তার সামান্য অংশও যদি দুর্যোগ মোকাবিলায় বিনিয়োগ করা হতো, তা হতো সবচেয়ে যৌক্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ।

ব্যক্তিগত পর্যায়ের দায় তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, সামান্য লাভের আশায় ভবন নির্মাণে সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করার ফলে আমরা নিজেরাই তৈরি করি মৃত্যুফাঁদ। প্রকৌশলীদের পরামর্শ অবহেলা করে এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ি নির্মাণ নিঃসন্দেহে সামাজিক আত্মহত্যার শামিল।

রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, উদ্ধারকাজ, জরুরি চিকিৎসা, আশ্রয়কেন্দ্র, খাদ্য–পানীয় সরবরাহ, যোগাযোগব্যবস্থা—এসবের ওপর ভিত্তি করে এখনই একটি সমন্বিত জাতীয় রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি খোলা জায়গা সংরক্ষণ, পুরোনো ভবন সংস্কার ও নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাও জরুরি।

সবশেষে তিনি বলেন, “আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো পরিকল্পনা বা প্রযুক্তি নিরাপত্তা দিতে পারে না। আমাদের সমাজে দুর্নীতি, জুলুম, অশ্লীলতা ও নৈতিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এই সময়ে গণতাওবা ছাড়া আমাদের সামনে অন্য পথ নেই।”

মুক্তিসরণি/এমএস